Posts

কবিতা

Image
কৃষ্ণ পক্ষ  বিলাস              ( ১৩/২/২০২০ )          কেউ জ্যোৎস্না বিলাসে মুগ্ধ,          কেউ বৃষ্টি বিলাসে আপ্লুত,           কেউ কেউ তো সুখের তরী    ভাসিয়ে দিয়েছে অসীম সাগরের বুকে৷      আমাকে           বরং একটা অমাবস্যা দাও, আর                 কিছু দুঃখ কুড়িয়ে দাও                এক পাহাড় কষ্টের সাথে                     প্রিয় হারা বেদনা'র                    স্মৃতি এনে দাও।        আমি নিশ্চয়          আর একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছুয়ে দেখতে                          চাই'বো না।           আর কোন চুলের গন্ধ ব্যাকুল হৃদয়ে           আবেগের স্রোত অন্য সাগরে প্রবাহিত                     হতে,  চাই'বে না।            শ্রবণ ইন্দ্রিয়, সে আবেগ সে শব্দ            দ্বিতীয়ত আর কোন আবেগময়            গল্প শুনতে বড়'ই বেশি আপত্তি                         জানিয়েছে।                   জ্যোৎস্না বিলাস, বৃষ্টি বিলাস             সমুদ্র বিলাস করো, সুখের নদীতে                        ডুব দাও, যত খুশি।                  এক পৃথিবী সম দুঃখ এনে দাও            বিরহ - বেদনা, কষ্ট ও কান্না             সমগ্র প্রেমিক...
স্বাধীনতা চাই  স্যাটেলাইট দাও কিংবা পদ্মা সেতু খাল কেটে দাও কিংবা নদী খনন  যে টাই দাও না কেন?  আমার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে,  আমার বাক শক্তি কেড়ে নিয়ে,  আমার কলম কেড়ে নিয়ে।  তুমি যদি সূর্য জয়ের গল্প শুনাও  আমার কোন লাভ হবে না।  পিঁয়াজের বাজারে আগুন লাগিয়ে  লেবু বাম্পার ফলনের গল্প শুনে  আমার কোন লাভ হবে না।  আমি তো দেখেছি মৃত্যুর মিছিলে  তোমার জমদূতের ন্যায় রূপ।  আমি দেখেছি, কৃষকের কান্নার মিছিলে ধান ক্ষেতে জ্বলে কৃষকের দেওয়া আগুন।  তুমি আমাকে মেট্রোরেল দিয়েছো  আকাশে উড়ার সু ব্যবস্থা  চাঁদে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দিয়েছো।  কিন্তু, আমি তো দেখেছি কি ভাবে জুয়ার আসরে  ব্যাংক কর্মকর্তা কিংবা মন্ত্রী আমলার নগ্ন উন্মাদনা।  আকাশে বিলুপ্ত হচ্ছে কোটি কোটি মানুষের আর্তনাদ।  আমি দেখেছি বন্ধুত্বের নামে,  দেশমাতাকে নগ্ন করেছে যারা  তাদের সাথে তোমাদের দোস্তি। আমি দেখেছি আড়তদারির জুলুম,  আমি দেখেছি প্রশাসনের মিথ্যা বীরত্বপানা অযোগ্য আর অমানুষের হাতে বন্ঠন হতে দেখেছি  আমার দেশমাতার দেহ খানা, যে ভাবে ছিবড়ে খাই শকুন  মৃত্যু দেহের দেহটা।  তুমি আমাকে গল্প শুনিয়ে,  ঘুম পাড়িয়ে রাখতে চাও?  না না না  তা হবে না আমি দেখেছি ...

কবিতা

আমি তখন রাজা হবো হে সভ্য সমাজ,  আমি ও একদিন, বৃদ্ধ অঙ্গুলি উচিয়ে বলব- তোমরা বড় অসভ্য।  হে আধুনিক সমাজ,  আমিও একদিন, তোমাদের ডেকে বলবো - উঁহু কি অ আধুনিক তুমি!   শতাব্দীর বস্তা পঁচা রুচি তোমার।  হে উচ্চ শিক্ষিত মানব, আমিও একদিন বলে বসব তোমাকে - আরে!  তোমার মাথা ভর্তি গোবর, কি জানো তুমি? ওহে ও দেশ প্রেমিক,  জেনে নাও, এই দেশ টা বিক্রি করে দিয়ে এসে। ভারাক্রান্ত কন্ঠে, দু-ফোটা অশ্রু বিসর্জন দিয়ে  আমি ও ভাষণ দিবো!  দেশের জন্য, আমার হৃদয় ব্যকুল।  আমার থলি ভর্তি স্বার্থপরতা আর জণগণের বিশ্বাস।  খুব যুদ্ধ বেঁধেছে।। থলি উচিয়ে আমি,  মানুষকে  সংবিধানের বাণী শুনাবো।  আমি তখন রাজা হবো,   ভীষণ জেদি হবো,   মুখে মুখে ঠুঁসি এটে দিবো।  শুধু আমি কথা বলবো।   সবাই শুনবে, আর হাত তালি দিবে।  মানুষ গুলো শুধু ছুটবে আর ছুটবে  এক কোটি, পাগলা ঘোড়া  এক কোটি, পাগলা কুকুর, আর এক কোটি,  হিংস্র হায়না ।  লেলিয়ে দিবো;  রাতের অন্ধকারে উঠিয়ে আনবো। ভোরে র প্রথম আলোতে,  তোমাদের রাজ পথ  রক্তের লাল বর্ণে কেঁপে উঠবে।  চা'য়ের কাঁপে কিছু সময় প্রবল ঝড় - সন্ধ্যা আসতেই,  আমার পাঠিয়ে দেওয়া জানোয়ার গুলো ক্ষিপ্ত হবে   চা'য়ের চুম...

আমার আমাকে যদি জানতে চাও

Image
" আমি কেনো ভিন্ন!   তোমাদের চিরচেনা সমাজের কাছে?  " ঘটনা 'এক'  বকুল ফুলের মালা হাতে ১২ বছরে এক বালক ছুটছে।   মালা নিবেন, ভাইয়া মালা নেন একটা, আপু মালা নেন একটা।    পকেটে হাত দিয়ে দেখি আড্ডা শেষে দশ টাকা অবশিষ্ট। কিন্তু ফুলের মালা আমাকে নিতেই হবে।   কখনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব হয় না,  যে সকালে কর্মস্থানে ফিরতে এই টাকা আমার লাগবে।  ওই সময় ওই বালক টির হাসি আমাকে ভুলিয়ে দেয়, আমার আগামীদিনের চিন্তা। ওর চোখে দেখি বিশ্বাস!  ও বিশ্বাস করে  সৃষ্টি কর্তা ওই ফুলের মাঝে তার রিযিক লিখেছেন। আমি এই বিশ্বাসকে সম্মান করি, উপভোগ করি।  দশ টাকার যে কয়টা মালা হয় কিনে নিই।  চাইলে দশ টাকা ওকে এমনি দিয়ে দিতে পারতাম।  কিন্তু দেইনি!    কারন ও যেন ওর কর্মের সম্মানের মূল্য পাই। ওর বিশ্বাস যেন নষ্ট না হয়। যে ফুলের মালার মাঝে,  রিযিক দাতা ওর রিযিক রেখেছেন। তাকে দশ টাকা এমনিতে দিয়ে, তার বিশ্বাস ভঙ্গের কারন হতে চাইনি।  আমি ওর চোখে সৃষ্টিকর্তার প্রতি যে বিশ্বাস দেখেছি,  যে পূর্নতা দেখেছি। তাতে করে  আমার  আর এক জনমে ফুল বিক্রেতা হয়ে জম্ম নিতে ইচ্ছে  হয়।  ঘটনা' দুই'   আজ যখন আজমীর শরিফের ফিতা দেখলাম,( ...

কবিতা

Image
বিষাদের প্রার্থনা চলে তো যাচ্ছে, চলে যাক যে ভাবে গ্রীষ্ম আসে, তারপর ভীষণ উত্তাপে খরাতে জ্বালিয়ে! দগ্ধ করে ধরণী রানী কে - ফিরে যাবে সে। দুই চোখে জল নিয়ে নেমে আসবে বর্ষা, সে কি অশ্রুপাত! যেন প্রিয় হারা কান্না। ভালোবাসার প্রবল স্রোতে ভাসিয়ে, ভিজিয়ে দিয়ে সবুজ অরণ্য, সেও চলে যায়! মাথার উপর বিশাল শূন্যতা নিয়ে, নীল শাড়ী পড়ে মেঘের পরতে পরতে, কাশ ফুলে'র কমলতা নিয়ে আসে, মেঘ কন্যা আকাশ রাণী শরৎ । কাশ ফুলের কোমল কেশর বিছিয়ে - ধরিত্রী মাতা তাকে গ্রহণ করে। মেঘ রাণী সেও ফিরে যাবে, যেভাবে গ্রীষ্ম, বর্ষা সময়ের স্রোতে হারিয়েছে। হিম শীতল বাতাসে করুন সুর নিয়ে, কোথা থেকে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে- ছুটে আসে হেমন্ত, দিকে দিকে নবান্নের উৎসব, ডুগি তবলা আর ঢোল! চাঁদের জ্যোৎস্না আকাশের বুক ফেঁড়ে ছিটকে পরে মাটিতে! লাঠির বুকে লাঠির করঘাত,শিশির ভেজা দূর্বা ঘাস। উৎসুক চোখ চেয়ে আছে, খেলছে লাঠিয়াল। নিভু নিভু প্রদীপ শিখা, ধরে রাখার ক্ষমতা আমার নেই। তাই মুঠো খুলে চেয়ে আছি, কুয়াশার চাদরে ওই, এলো কে! ছমছম নীরবতা, শীতল বায়ু ছুটে আসে খেজুর রসের কলস কাঁধে করে। প্রকৃতি ঢেকে যায় কুয়াশার আড়ালে। তবুও স্বার্থহীন চাঁদ, আলো দিয়ে যায়,...

অভিনয়

  অরণ্য নাসিদ  ক্লান্তিতে নুয়ে পড়েছে বুড়ো বট বৃক্ষ, অথচ একদিন শত মানুষ কে ছায়া দিয়েছে,  একদিন বুক আগলে দাঁড়িয়ে ছিলো,  ঝড়ের তান্ডব উপেক্ষা করে।  আজ সে বৃদ্ধ,  ডাল গুলো শুকিয়ে গেছে।  নুয়ে পড়েছে, পাতা গুলো নিষ্প্রাণ তার।  পাখিরাও আসে না, এখন আর।  এক ঝাঁক সাদা বক রোজ নিয়ম করে,  রাত্রি যাপনে আসতো এই বৃক্ষ শাখায়।  আজ তারা খুজে নিয়েছে নতুন নিবাস।  মানুষ গুলো রোজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করে,  অথচ এক সময়,  শীতল ছায়াতলে কত ক্লান্ত শরীর এখানে নুয়ে পড়ত।  কেউ এখন খোজ রাখে না,  তার!  সামান্য বাতাসে ভেঙ্গে পরে,  কুড়ালের আঘাতে  ক্ষত হওয়া শাখা প্রশাখা।  এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে প্রবীণ বট বৃক্ষ।  সময়ের প্রয়োজনে, কত জন আপন হয়!  অসময়ে সে জন কুড়াল দিয়ে আঘাত করে।  আসলেই কেউ আপন নাই, শুধু সময়ের প্রয়োজনে  আপন হবার অভিনয় ।

কবিতা- মুক্তিযোদ্ধা

মুক্তিযোদ্ধা  বিষাদের বিষ যতই পান করাও, আমি মৃত্যুর পর পুনরায় ফিরে ফিরে আসবো, এ আমার অঙ্গীকার।  স্লোগান করো-  দেওয়ালে দেওয়ালে ছেপে দাও, নিষিদ্ধ আমি।  তোমার শহরে, আমার পদচারণ অবৈধ্য। মোড়ে মোড়ে, কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে নাও, সময় বড় কম, একবার শুধু একবার যদি  তোমার ওই বেষ্টনী ভেদ করি!  সময় এখন তোমার পক্ষে, জীবন এখন  তোমার জয় গান করে, তুমি এখন অপরাজেয়।  এখনি সময় - আমার পাড়া, আমার মহল্লা উচ্ছেদ করো।  বন্দুকের নল উঁচিয়ে, তাঁক করো আমার বুকে  টিগারে আঙ্গুল রেখে কি ভাবছো ?  শত্রু তোমার সম্মূখে, অস্ত্র তোমার হাতে।  মনে রেখো, শত্রু এবং অস্ত্রের প্রতি বিশ্বাস রাখতে নেই।  সময় বহমান,  অস্ত্র হাত হতে হাতে পরিবর্তনশীল।  তুমি যদি আমার শত্রু হও,  আর তোমার হাতের অস্ত্র যদি, আমার হাতে থাকে।  শুধু আওয়াজ উঠবে, শুধু আওয়াজ।  শত্রু কে সামনে রেখে সময় নষ্ট করার মতো, বোকামী আর কি হতে পারে!  সময় আছে আমাকে ধ্বংস করো,  আমার দেশের প্রতিটি ঘরে, আমি লুকিয়ে আ...