Posts

Showing posts from October, 2019

যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে

Image
ছাড়পত্র যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে তার মুখে খবর পেলুম ঃ সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক , নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার জম্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে । খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত উত্তোলিত, উদ্ভাসিত কী এক দুর্বোধ প্রতিজ্ঞায় । সে ভাষা বোঝে না কেউ , কেউ হাসে , কেউ করে মৃদু তিরষ্কার । আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা । পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের _ পরিচয় -প্ত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে । এসেছে নতুন শিশু , তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান ; জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ , মৃত আর ধবংসস্তূপ-পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের । চলে যাব_তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক"রে যাবো আমি _ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার । অবশেষে সব কাজ সেরে আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে করে যাবো আশীর্বাদ , তারপর হব ইতিহাস ।                                                     সুকান্ত ভ...

বাংলা প্রহসনের সার্থক স্রষ্টা

Image
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা প্রহসনের সার্থক  স্রষ্টা বঙ্কিম ছিলেন বাংলা উপন্যাসের স্রষ্টা , রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বাংলা গল্পের স্রষ্টা , তেমনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা প্রহসনের সার্থক  স্রষ্টা। এখন আমাদের জানা প্রয়োজন "প্রহসন" কি?  হাস্যরসময় জীবনলেখ্য রূপায়িত হয়ে ওঠে।  যেখানে সমাজের কুরীতি শোধানার্থ রহস্যজনক ঘটনা সম্বলিত হাস্যরস - প্রধান একাংকিকা নাটককে বুঝায়। বর্তমান কালে প্রহসন বলতে অতিমাত্রার লঘু কল্পনাময় , অতিশয্য়ব্যঞ্জক , হাস্যরসোজ্জ্বল সংস্কারমূলক নাটককে বুঝায়। *** ইংরেজি farce শব্দের প্রতিশব্দ হিসাবে প্রহসন শব্দটি এসেছে। ***  বাংলা প্রহসন বলতে "কৌতুক ও ব্যঙ্গরসাত্নক সর্ববিধ নাটক কে বুঝানো হয়। মাইকেল মধুসূদন  দত্তের দুইটি প্রহসন মূলক রচনা ১. একেই কি বলে সভ্যতা এবং ২. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো তথ্য - পঞ্চম প্রকাশ প্রকাশক - মোঃ ফজলুল হক  সুচয়নী পাবলিশার্স   ছবি - গুগল 

কবিতা

নিঃসঙ্গতার অভিশাপ ২/১০/১৮ নিঃসঙ্গ আমি, চৈত্রের আকাশে পাতা হীন শুষ্ক বৃক্ষের ন্যায় । নিঃসঙ্গ আমি, বিশাল আকাশে দহনরত দিবাকরের ন্যায় । নিশ্ততি রজনীতে একা শশী, যেমন নীরব নিথর , নিঃসঙ্গ তেমন আমি। মাথার উপর শূন্য নীরদ , তাহার উর্‌দ্ধে নীলাভ অনন্ত । প্রবাহিণী হয়ে ছুটে চলেছি , বন বনান্তর পেরিয়ে মহীন্দ্রের খোঁজে । কোথায় হে জগদীশ্বর , আমি প্রতিবাক্যের প্রতিক্ষাতে আছি । নিঃসঙ্গতা নিয়ে পথ চলি ,আমার এই এই নিঃসঙ্গতা তাহাকে করি উৎসর্গ - যাহার প্রবঞ্চনাতে হয়েছি আমি ক্ষতবিক্ষত । অভিশাপে অভিশপ্ত করে হৃদয় যাহাকে , নিঃসঙ্গতা ঘিরে থাক ওগো পরমপুরুষ প্রার্থনা তোমার কাছে । বারিধারা যেমন অঝরে ঝড়ে ,ঝড়ে যেন তেমনি তাহার আঁখিপাতে। যে শর্বরী দিয়ে মোরে বিষজ্বালা , সুখের তটিনীতে ভাসাইলো ভেলা সে যেন কভু না খুঁজে পাই সে সুখের ঝর্ণা ধারা । কোথায় হে কালপুরুষ , সময় বহতা নদীর ন্যায় বয়ে যায় আপন কর্মে মনোনিবেশ করো এবার ,পাপীর পাপ যে গগন ছুঁয়ে যাই । কোথায় দন্ডনায়েক দন্ড দাও - দন্ড দাও , পাপিষ্ঠ যে স্বর্গে পদার্পণ - করতে চাই । নিঃসঙ্গ হয়েছি যে ছলনাময়ীর ছলনাতে , তাহার ধ্বংস দেখে মরিতে চাই । নীলকন্ঠে বাসকির বিষ ধারণ কারী...
Image
তুমি যাকে ভালোবাসছো , শ্রদ্ধা করছো , যার উন্নতির জন্য দিনরাত দোয়া করছো ......... একটু খোঁজ নিয়ে দেখবা - সে তোমাকে ন্যূনতম মূল্যায়ণটুকুও করে কিনা ! একটু চোখ বন্ধ করে নিজের আত্মাকে বিড়বিড়িয়ে জিজ্ঞেস করবা - সে তোমাকে তোমার মতো করে আদৌ কখনো ভালোবেসেছে কিনা ! জীবনে অনেক মানুষই তোমার কাছে সাহায্য চাইবে , এমন কাওকে সাহায্য করবা না যার জন্য তোমাকে পরবর্তীতে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয় ! আড়ালে চোখের পানি ঢাকতে হয় ! জীবনে রক্তের সম্পর্ক ব্যতীত কারো জন্যই অত্যাধিক আবেগ তাড়িত হবা না ...... , বি শেষ কাওকে বাঁচানোর জন্য আগুনে লাফ দিয়ে হঠাৎ তুমি খেয়াল করবা - যার জন্য লাফ দিলা সে নিজেই লাফ দেয়নি ...... মুচকি হাসছে ! মধ্য দিয়ে তুমি ই ঝলসে যাচ্ছো l তোমাকে অঙ্গারিত করে বিচক্ষণ মানুষটা করে নিয়েছে নিজ স্বার্থ উদ্ধার ! কিছু কিছু সেনসেটিভ কথা , তোমার মনের দূর্বল স্হান , তোমার কনফিডেন্সের লেভেল ভুলেও কারো সাথে সহজে শেয়ার করবা না l তোমার হৃদয় এফোড় ওফোড় হয়ে যাবে যখন তুমি হা করে দেখবা - তোমার দেয়া তথ্যগুলোই বুমেরাং হয়ে তোমাকে ঘায়েল করছে l কারো জন্য বেকুবের মতো শুধু করেই যাবা না ! সবসময় give and take ...
Image
পূর্বদিকে মুখ করে পা দুটো সামনে সটান ছড়িয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে আকাশে চেয়ে বসে আছে আব্দুল খালেক। রাজ্যের বিরক্তির ছাপ তার চোখে মুখে। একটু আগে ওঠা সুর্যের লাল আলো ঠিকরে পড়ছে মুখে। কিছুটা মুখোমুখি বসে খালেকের দিকে নিষ্পলক চেয়ে আছে আছিয়া। সকালের লাল মিঠে রোদ খালেকের চোখ-মুখে তৈরী করছে কি যেন এক পবিত্র ও করুণ ময়াবী আভা যা নদীর পাড় ভাঙ্গার মত ভাঙ্গছে আছিয়ার বুক। বেশ ক’মাস পর আজ সে মামা বাড়ি এসেছে। আসতে তো রোজই মন চায় কিন্তু বিয়ের পর অনেক ইচ্ছাকেই পাথর চাপা দিয়ে রাখতে হয় তাকে। তাইতো ইচ্ছে করলেই আসতে পারে না। নয়মাস হলো বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর এই দ্বিতীয়বার আসা। ভাই.. ও ভাই কেমন আছো? ভাবলেশহীন বসে থাকা খালেককে ডাকলো আছিয়া। নিষ্পলক, নিরুত্তোর খালেক চেয়ে রইলে আকাশের দিকেই। আছিয়ার বড় মামার বড় ছেলে খালেক। ছোট ছেলের নাম মালেক। তার সাথে এখনো দেখা হয়নি। আছে হয়তো কোন কাজে ব্যস্ত। মামা মারা গেছে আটমাসের মতো হলো। এর পর থেকে বাড়ির সবতো মালেককেই সামলাতে হয়। কিছু সময় বিরতি দিয়ে আছিয়া আবার ডাকলো খালেককে। বার কযেক ডাকার পর পলকের জন্য চোখ নামালো আছিয়ার দিকে তার পর আবার আকাশে দৃষ্টি। শূণ্যে তাকিয়ে নি...

কবিতা

Image
                                                                                কুঁড়ে ঘর               নাসিদ  একটা ভাঙা কুঁড়ে ঘরের স্বপ্ন ছিলো, তাল পাতার ছাউনিতে ঢাকা ছিলো , রাতের আধারে মেঘের বুক চিরে, জ্যোত্স্না উঁকি দিবে কথা ছিলো। বর্ষার আকাশ কেঁদে কেঁদে আমাকে স্লান করাবে , এমন ও স্বপ্ন ছিলো । কথা ছিলো জোনাকির সাথে , কথা ছিলো রাত জাগা পাখির সাথে। কথা ছিলো হাসনাহেনা ও শিউলীর সাথে । কথা ছিলো কোটি কোটি তারার সাথে । কথা ছিলো আধারের সাথে , কথা ছিলো কুড়ে ঘরের স্বপ্ন দেখবো বলে । কথার গলে , বিষের মালা , আমি এক ছন্নছারা । সব কথা ছুরে ফেলে , নিজেকে নিজে করেছি বড় অবহেলা । আজ এই রাত সাক্ষী , আবার কোন এক শরত্ এ ঘুম হরনকারী- চাঁদের আলোতে কথা দিবো । সত্যিই আমি কথা দিবো , একটা ভাঙা কুঁড়ে ঘর তোকে দলিল করে দিবো । তালপাতার সে ছাউনি , টিপ টিপ ...