Posts

প্রিয় বন্ধু,  গোলাকার এই পৃথিবীটা যতটা না বড় তার চেয়ে অধিক ছোট। আর সে কারণে তোমার আমার দেখা হয়ে যাওয়াটা খুব অলৌকিক ভেবো না।  এখন যতটা সম্ভব পরিচিত মুখ এড়িয়ে চলি।  তার যথেষ্ট কারণ আছে।  অন্য কোন একদিন বলবো না হয়।  কোথায় আছি আর কেমন আছি?  এই প্রশ্নের উত্তর, না জানা থাক।  মধ্যরাতের আকাশের দিকে চেয়ে আছি।  অভিযোগের খাতাতে, আমার নামে প্রতিনিয়ত অভিযোগ জমা হচ্ছে।  আমিও বড় একগুঁয়ে আচরণের নিজেকে তৈরি করে নিয়েছি । তাই ওই খাতা খুলে দেখা হয় না, কে কি অভিযোগ করলো।   আমার নামে সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছিল যে দিন,  তা আর কিছু না।  আমি নাকি বড় সেকালের। আমার মাঝে আধুনিকতা নেই।  নেই ভদ্রতা, নেই কোন গুণাগুণ।  আমি নাকি ভালোবাসার মর্ম জানিনা।  সব মাথা পেতে নিয়েছিলাম, একটা অভিযোগ মাথা পেতে মেনে নিতে পারেনি।  কারণ ভালোবাসতে জানি আমি,   উজাড় করে ভালোবাসতে শিখেছি।  কারণ ভালোবাসতে শিখিয়েছিলো আমার প্রকৃতি, আর প্রকৃতি কখনো ভালোবাসার মাঝে খাদ রাখতো না।   বন্ধু,  তুমি হয়তো জানো না।  সে কেনো এসেছিলো আমার বাহুডোরে!  তার খুব ইচ্ছে ছিলো তার রূপকে কাব্যের স্বর্গে লিখে দিয়ে যাক কেউ।  তার শরীর কে বর্ণনা করুক কেউ।  সে লোভে আমাকে...
ক্রোধ  হে প্রিয় রাষ্ট্র, অজস্র সেচ্ছাদাসী আছে।   যে বা যাহারা ক্ষমতার লোভে,  দেহ ত্যাগে আনন্দ উপভোগ করে।   সেসব রক্ষিতা থাকতে, কেন?  অসহায় নারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পরচ্ছে।   তোমার দাঁতাল শুয়োর গুলো।   কেনো বস্ত্রহীন করছে মা বোন কে?  হে রাষ্ট্র, তুমি শুয়োর পালন করো।   অথচ কচু খেত রাখো না?   আমি বিশ্বাস করি না।   আমি দল জানি না, জাতি জানি না  আমি জানি ধর্ষক এক কলঙ্কের নাম।  আমি জানি, ধর্ষকের আশ্রয় দাতারা  এক অভিশাপের নাম।  প্রিয় রাষ্ট্র, আমি ফেলিনিকে ভুলেছি  তিস্তার জল পাবো পাবো করেও হারিয়েছি।  তবুও নিশ্চুপ ছিলাম, শত্রুর দোসর  মাথার ওপর বসে আছে জানি।  প্রিয় রাষ্ট্র,  তুমি তনু কে দেখেছিলে?  আ'হা বীভৎস সে লাশ।  আমি তো তোমার পতাকায় দেখি ধর্ষিতার রক্ত।  প্রিয় রাষ্ট্র, আমরা বিশ্ব্জিৎ কে ভুলে গেছি।  আবরার কে ভুলে গেছি।             কোন, আবরার যেনো?  ওই যে?  ভারতের গোলামীর বিরুদ্ধে  নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার লড়াইয়ে                                      প্রথম শহীদ।  পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো!  যারা হত্যা করেছিলো,  তারা আর কেউ না  এই দেশের বুকে বেড়ে ওঠা ভারতের জারজ সন্তান।  প্রিয় রাষ্ট্র সম্র...
তুই ফিরে যা অবশেষে তুই আমার আঙিনাতে পা রাখলি । কুয়াশার চাদরে লজ্জা কে ঢেকে রেখেছে প্রকৃতি । আমার দু ফোটা শুকিয়ে যাওয়া অশ্রু ,যার দাগ এখন ও পূর্ন যৌবণে ভরপুর। অবশেষে তোর ফেরার সময় হলো ?  নিকটিনে আসক্ত ফুসফুস এখন চুপসে গেছে । ঘুম জাগা রাত এখন ও সাক্ষী আছে , বোতল বন্দী ভালোবাসা এখন আমাকে ঘিরে রেখেছে । আমি ফিরে পাবো বলেতো তোকে মুক্ত করে দেয়নি !  তোর সুখের খোঁজে তুই হারিয়ে গেছিস ।  তবে কেনো এই ফিরে আসা ।  এখন তো কিছুই দেবার নেই আমার ।  আমি আমাকে বিক্রিয়ে দিয়েছি , অমানুষ নামে কোন এক প্রতিচ্ছবির কাছে । খুব সল্প মূল্যে , ঐখান থেকে তোকে দেওয়ার কিছুই অবশিষ্ট নেই । অভিশাপ এসে আমাকে আগলে রেখেছে ।  আমি এখন অভিশাপের প্রেমিক । সেই ভালো তুই ফিরে যা ! আর এগিয়ে আসিস না - আমার তো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই , যা বিক্রিয়ে নতুন কোন নেশায় আচ্ছন্ন হবো ।  ভোরের পাখি ডাকে , আলো ছরিয়ে সূর্য জেগে ওঠার আগেই তুই এই কুয়াশার চাদর মেখে দূরে চলে যা । তা না হলে দুঃখরা এসে জমাট বাধবে  আমার নামে কলঙ্ক দিবে ।  আমি আর সুখী হতে চাই না , কুয়াশা থাকতে থাকতে তুই ফিরে যা
বসুধা  বসুধা এইবার হেমন্তে নবান্নের উৎসবে তুমি এসো , খোলা আকাশের নিচে , চাষ করা কোন খেতে  কাঁচা মাটির গন্ধ শরীরে মেখে নিবো দু-জনে । তুমি নীল শাড়ীটা পড়ে এসো , আমি সাদা পোষাকে । প্রেমিক হৃদয়ে ,কবির নেশাগ্রস্থ আঁখি দ্বয়ে  দীঘির জলে ,ঢেউ খেলা নদীর স্রোতে  , হেমেন্তের  কুয়াশাচ্ছন্ন শূন্যের পথ বেয়ে পূর্ণ চন্দ্রের জ্যোৎস্না আমাদের আলিঙ্গনের সাক্ষী হবে । পাপ ভুলে যাও , ভুলে যাও পুণ্য, এসো - ওয়াইনের খোলা  বোতলে চুমুক দিই । মিথ্যা শীৎকারে আর না , এসো দু-জন  চোখের প্রেমে পড়ি , আলিঙ্গনের প্রেমে পড়ি । বিবেকের দরজাতে তালা লাগিয়ে, তোমার বুকে মাথা রেখে  আমি দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিতে চাই  । কামনাকে দূরে ছুড়ে দিয়ে শীতল নদীর মতো গভীর ওই চক্রকেন্দে ভালোবাসা প্রদান করতে চাই । বসুধা এসো প্রহর বয়ে যাচ্ছে , অধর শুষ্ক  আরও কাছে আসো , অধরের আলিঙ্গনে বিলম্ব করতে নেই । মাথার উপর শূন্য আকাশ , নক্ষত্র রাজিরা সাজিয়েছে বাসর এইতো সময় শরীরের চাষাবাদের , বসুধা কামনা না  উত্তম চাষাবাদের যোগ্য চাষী করে নাও আমাকে । মনে রেখো মিথ্যা শীৎকার না , আমরা এসেছি পূনাঙ্গ ভালোবাসা  ছড়িয়ে দিতে , আমরা এসেছি ভালবাসতে ,দু-জন এক হতে । সঙ্গম না ...
******আমি ইশ্বর আমিই শয়তান******* আমার হৃদয় ভূমিতে লালিত হয়, একটি বৃক্ষ  সে বৃক্ষে জম্ম হয়, একটি ফল সে ফলের নাম দিয়েছি ভালোবাসা। আমার অন্তর আত্মার গহীনে, ক্ষত হয় অগ্নিগিরির সৃষ্টি হয়, মাথা উচু করে পর্বত পর্বত বেয়ে নেমে আসে ঝর্ণা, সৃষ্টি হয় আর এক মহাসাগর, যার নাম দিয়েছি বেদনা। তুমি আমাকে কি নামে ডাকবে? আমার বাম চোক্ষে চেয়ে দেখো, ভালোবাসার সীমাহীন আকাশ। আমার ডান চোক্ষে চেয়ে দেখো, অভিশাপের কালো মেঘ জমা হয়ে আছে। বজ্রের ন্যায় চিৎকার করে ওঠে  কন্ঠনালী, ভালোবাসার মধুময় সুরে দেবী রে আলিঙ্গন করে সে। তুমি কি নাম দিবে আমায়। রাজ পথে, মিছিলে শ্লোগানে, প্রতিবাদের সভাতে আমাকে দেখেছো, আবার- দেশপ্রেম কিংবা দেশদ্রোহী,  সকল স্থানে সকল   মুখোশে দেখেছো তুমি আমাকেই। ইশ্বরের সাথে বন্ধুত্ব আমার,  শয়তান এর সাথে দোস্তি। তুমি আমাকে কি নামে ডাকবে -   আমার হৃদয় ভূমিতে একটি বৃক্ষ লালিত হয়, সে বৃক্ষে দুইটি ফলের সৃষ্টি হয়, একটি মাওয়া অন্য টি গন্ধক।  তুমি কিংবা তোমরা, কি নামে ডাকবে আমায়।
কত যে স্বপছিল তোকে ঘিরে ,  কত রাত জেগে চেয়ে থেকেছি - তোর অপলক হাসিটির দিকে ।  কত স্বপ্ন ছিল ,তোকে ঘিরে  মাছ রাঙা যেমন ছোঁ মেরে মাছ চুরি করে !  আমিও  চুরি করে আনবো  তোকে, তেমন করে ।  পানকৌড়ি যেমন ,ডুব সাঁতারে অষ্টপ্রহর ছুটে জলে ।  আমি খেলবো তেমন , তোর মনের নদীতে ।  ভীষণ খরায় আমি কালো মেঘ হবো ,   তোর পিপাসিত কায়ায় ,এক আকাশ জল হবো ।  তাল পাতার ছাউনিতে, টুপুর টুপুর বৃষ্টির ছন্দ হবো ।  ঝিনুক হয়ে বুকের মাঝে তোকে আগলে রাখবো ।  অক্ট্রোপাসের মত আষ্টেপিষ্টে হৃদয়ের গহীনে বাঁধবো ।  তোর অলস দেহের ক্লান্তি মুছে , দুপুরের স্লানে আমি দীঘির জল হবো ।  পরশ মাখা বিকালে ,আমি তোর কফির মগ হবো ।  ঠোঁটের উষ্ণ ছোঁয়াতে আমি শিহরিত হবো ।  সাঝের বেলাতে ,আমি তোর খোঁপায় ঘোমটা হবো ।  রাতের গহীনে আমি তোর স্বপ্ন হবো ।  কত স্বপ্ন ছিলো তোকে ঘিরে ,  আজ স্বপ্নরা সব কোন সে দূরে -  শূন্য করে কোথায় হারালে ?
তুমি শরৎ এর মত স্নীগ্ধ , শিউলি ফোঁটা সন্ধ্যা । তুমি শরৎ এর মত পবিত্র , কাশ ফুলের স্পর্শ । যখন শিশিরের শব্দের মত টুপটাপ শিউলি ঝড়বে , মনের ডায়েরীতে লিখে রেখো,  শরৎ এর কথা । আকাশে সাদা মেঘের উড়োউড়ি , মৃদু হাওয়ায়  কাশ বনে লাগে ঢেউ । আমি তখন তোমার  হৃদয় সাগরে ,  পাল তুলে হারিয়ে যেতে চাই । শরত্‍ আসে শুভ্রতার প্রতীক হয়ে , তেমন তুমিও কবি জীবণে । নীল আকাশে  সাদা মেঘের ছুটোছুটি , ঐ আকাশের কোন এক  নক্ষত্র কন্যা তুমি ! উড়ে উড়ে যেতে চাও , দূরগামী পেঁজা তুলোর মেঘের ভেলাতে ! কোন এক শরতে ,নদীর জলে কাশ ফুলের মেলাতে।  মেঘ রথে চড়ে ,এসেছিলে বেড়াতে । আর ফিরে যাওয়া হয়নি ! নির্জন মাঠে , নিঃশব্দে বেড়ে ওঠে নিকট ভবিষ্যৎ   তুমি তেমন এই কোলাহোলে উঠেছো বেড়ে । শাপলা -শালুক -শিউলি ফোঁটাতে ,  শরত্‍ এসেছে বড় মায়াতে । কোন এক শরতের নিশুতি রাতে কবির চোখে।  তুমি রূপের ঝলক এঁকেছিলে , প্রশান্তির  ছায়াতে । বর্ষার উত্তাল জোয়ারে,  যে নদী ছুটে অবিরাম অক্লান্তে । যে বৃক্ষ রৌদের উপ্তাপে ,জ্বলে  চৈত্রের খরাতে । সেই বৃক্ষ আবার ভেজে বর্ষার জলেতে । স্নিগ্ধ হয়েছে আজ , চারিদিক নিস্তব্ধতা ,শরত্‍ এর আগমনে । কবির অশান্ত হৃদয়ে , শরতের দূত ...